কুমিল্লা: সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবল তিলোত্তমা নগরী কুমিল্লা। মঙ্গলবার সকালের মাত্র দেড় ঘণ্টার ভারী বর্ষণে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি এখন পানির নিচে। জলাবদ্ধতার করাল গ্রাসে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। কুমিল্লা ঈশ্বর পাঠশালা কেন্দ্রে পরীক্ষার হলের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে।
হলের ভেতরে ড্রেনের পানি: পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় গিয়ে দেখা যায় এক অভাবনীয় চিত্র। বিদ্যালয়ের পুরো আঙিনা পানিতে তলিয়ে গেছে, আর সেই নোংরা পানি ঢুকে পড়েছে পরীক্ষা কক্ষের ভেতরেও। বিশেষ করে টিনশেড ভবনের প্রতিটি কক্ষে নালা ও নর্দমার ময়লাযুক্ত পানির মধ্যেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়। হলের পর্যবেক্ষক শিক্ষকরাও চেয়ারে পা তুলে বসে দায়িত্ব পালন করেন। এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, নোংরা পানির দুর্গন্ধে বসে থাকা দায় ছিল, তার প্যান্ট ও জুতা সম্পূর্ণ ভিজে যাওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
স্থবির হয়ে পড়েছে যান চলাচল
নগরের কান্দিরপাড়, নজরুল অ্যাভিনিউ, ঈদগাহ রোড ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় বিকল হয়ে পড়েছে অসংখ্য যানবাহন। কান্দিরপাড়-ঈদগাহ সড়কে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়াও সালাউদ্দিন মোড়, টমছমব্রিজ ও শাসনগাছা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি, ক্ষুব্ধ নগরবাসী
স্টেডিয়াম মার্কেটের অধিকাংশ দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। নগরবাসীর অভিযোগ, ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ‘জলাবদ্ধতা মুক্ত কুমিল্লা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং শহরের প্রধান নিষ্কাশন মাধ্যম ‘কান্দি খাল’ সংকুচিত হয়ে আসায় এই সমস্যা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু) জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য দুটি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। আগামী বর্ষার আগেই পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির আশ্বাস দেন তিনি।
তবে নগরবাসীর প্রশ্ন—এই আশ্বাসের বাস্তবায়ন কবে হবে? আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের এই বেহাল দশা থেকে মুক্তি চায় কুমিল্লার মানুষ।



