যিনি পর্দায় আসলেই দর্শকদের মুখে হাসি ফুটত, সেই মানুষটিই আজ সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন আর নেই।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’।
“আমাদের প্রিয় সহকর্মী তারিকুজ্জামান তপন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”
লড়াইটা ছিল অসম
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে তপন ভাইয়ের খাদ্যনালিতে মরণব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, রোগটি ততক্ষণে চতুর্থ পর্যায়ে (স্টেজ–৪) পৌঁছে গিয়েছিল।
এরপর থেকেই শুরু হয় যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা ও কেমোথেরাপি। তিন দফা কেমোথেরাপি সম্পন্ন হলেও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।
অভিনেতার স্ত্রী সাবিনা হেলেন ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান, শেষ দিনগুলোতে তিনি কিছুই খেতে পারছিলেন না। তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও বমির কষ্টে দিন কাটছিল তাঁর। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতেও ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে।
আর্থিক সংকট ও শেষ আকুতি
চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে তাঁর পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। সরকারি হাসপাতালে শয্যা না পাওয়া এবং বেসরকারি হাসপাতালের উচ্চ ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল পরিবারটি।
তাঁর ছেলে তাছফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার জন্য সবার কাছে সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ও প্রার্থনা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
স্মৃতিতে অম্লান তপন ভাই
ছোট পর্দা ও চলচ্চিত্র—দুই মাধ্যমেই ছিল তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণা। বিশেষ করে কমেডি চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল।
‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’, ‘যা ছিল অন্ধকারে’—এর মতো চলচ্চিত্র এবং ‘জোড়া শালিক’, ‘হাতছানি’, ‘অল্পে গল্পে’ ও ‘মৃত্তিকার যাত্রা’—এর মতো অসংখ্য নাটকে তাঁর অভিনয় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
হাসি বিলানো এই মানুষটির প্রয়াণে শোবিজ অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পর্দার সেই প্রাণবন্ত মানুষটি আর কোনো নতুন নাটকে দর্শকদের হাসাবেন না—ভাবতেই স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছেন তাঁর সহকর্মী ও ভক্তরা।
তপন ভাই, ওপারে ভালো থাকবেন। দর্শকদের ভালোবাসা আর আপনার অমর সৃষ্টিগুলো আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে আজীবন।




মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তপন ভাইকে বেহেশত নসিব করুন।