নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর (রাজশাহী) | ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালীন ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কলেজের অফিসকক্ষ ভাঙচুর এবং অধ্যক্ষসহ অন্তত ৫ জন শিক্ষককে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে কলেজ চত্বরে পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত ও হামলা
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় কলেজে ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষাকেন্দ্র বিবেচনায় প্রশাসন থেকে কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। তবে দুপুর আড়াইটার দিকে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আলীসহ প্রায় ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কলেজে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, নারী প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা এবং অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলার সময় কলেজের অফিসকক্ষে থাকা আসবাবপত্র ও নথিপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
আহতদের অবস্থা ও আতঙ্ক
হামলায় গুরুতর আহত অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরীক্ষা শেষে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রাণভয়ে কলেজ ত্যাগ করেন।
আহত শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, জয়নগর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা সরাসরি এই হামলায় অংশ নিয়েছেন। অধ্যক্ষের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেয়ায় এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
পাল্টা অভিযোগ বিএনপির
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক অধ্যক্ষ ও আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হকের অনিয়ম-দুর্নীতির হিসাব চাইতে তারা কলেজে গিয়েছিলেন। তাদের দাবি, হিসাব না দিয়ে উল্টো শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হাত তোলেন, যার ফলে সাধারণ কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি
দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, “আমরা উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের বাধা উপেক্ষা করেই কিছু লোক কলেজের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা কতটা নিরুপায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।”
বর্তমানে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও আশপাশের এলাকায় থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।



