কিয়েভ ও খারকিভে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; ২৮২ ড্রোন ব্যবহারের দাবি ইউক্রেনের, জেলেনস্কি তখন নিউইয়র্কে
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ২৪ সেপ্টেম্বরের হামলায় রাজধানী কিয়েভ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভের একটি কৃষি স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। কিয়েভে একটি মাতৃসদনের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কিয়েভে দুজন এবং খারকিভ অঞ্চলে ছয়জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতের হামলায় ২৮২টি ড্রোনের পাশাপাশি অজ্ঞাত সংখ্যক হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ি, ডাকঘর, গুদাম ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাতৃসদনের কিছু অংশের জানালা, দরজা ও বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে থাকা রোগী বা চিকিৎসাকর্মীদের কেউ আহত হয়নি বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কূটনীতির সময়েই হামলা
হামলার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ছিলেন। এর আগে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে সীমিত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। জেলেনস্কির প্রস্তাব হলো, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করে, ইউক্রেনও একই ধরনের হামলা বন্ধ করার কথা বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা এখনো ভিন্ন। রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগার, পরিবহন ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা বাড়িয়েছে। যুদ্ধরত দুই পক্ষের অনেক দাবি স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না।
শীতের আগে বড় উদ্বেগ
ইউক্রেনের জন্য এবারের শীত বিশেষ উদ্বেগের। দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়লে বিদ্যুৎ, তাপ ও শিল্প উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়তে পারে। ইউক্রেন তাই পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সময়ে ইউক্রেনের বন্দর ও কৃষিপণ্য রপ্তানি নিরাপদ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্যপথ ও বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। জাতিসংঘ অধিবেশনের আলোচনায় কূটনৈতিক সমাধানের কথা যতই উঠুক, সামরিক হামলা চলছেই। ২৪ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হামলা আবারও দেখিয়ে দিল, আলোচনার টেবিল ও যুদ্ধক্ষেত্র—দুই জায়গাতেই চাপ এখন একসঙ্গে কাজ করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস; দ্য গার্ডিয়ান; ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।




