৯টি দল সরাসরি যোগ্যতা পেয়েছে, আর প্লে-অফের বাধা পেরিয়ে ডিআর কঙ্গোও জায়গা করে নিয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে
ঢাকা | ১৪ জুন ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে মোট ১০টি দল খেলছে। কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (CAF)-এর ৯টি সরাসরি কোটা পূর্ণ হওয়ার পর ইন্টার-কনফেডারেশনাল প্লে-অফে জিতে কঙ্গো ডিআর শেষ আফ্রিকান প্রতিনিধি হিসেবে মূল পর্বে ওঠে। ৪৮ দলের এই আসরে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত, আর সে কারণেই মহাদেশটির এই দলগুলো এখন শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, প্রতিযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এক নজরে আফ্রিকার ১০ দল
| দল | বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ | এবারের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা |
|---|---|---|
| মরক্কো | ৬ | ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা এখন আফ্রিকার সবচেয়ে পরিণত দলগুলোর একটি। রক্ষণ, ট্রানজিশন আর বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতায় তারা আবারও নকআউট পর্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার। |
| সেনেগাল | ৪ | টানা অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড তাদের বড় ভরসা। ২০০২ সালের কোয়ার্টার-ফাইনালের পর এটাই তাদের সবচেয়ে ধারাবাহিক সময়ে একটি; গ্রুপ আই কঠিন হলেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। |
| তিউনিসিয়া | ৭ | বাছাইপর্বে একটিও গোল হজম না করে ওঠা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আক্রমণে সীমাবদ্ধতা থাকলেও শৃঙ্খলা ও সংগঠনে তারা যে কোনো বড় দলের জন্য অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। |
| মিসর | ৪ | সালাহ, মার্মুশ ও এল শেনাওয়ির মতো নাম থাকায় প্রতিভার ঘাটতি নেই। তবে দলটি এখনো বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের অপেক্ষায়, তাই তাদের সম্ভাবনা মূলত রক্ষণভিত্তিক ও কাউন্টার আক্রমণনির্ভর। |
| আলজেরিয়া | ৫ | মহারেজ-নির্ভর আলজেরিয়া অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এবং ২০১৪-তে প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার পর থেকে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। কিন্তু গ্রুপ জে-তে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান থাকায় কাজটা খুবই কঠিন। |
| ঘানা | ৫ | ২০১০ সালের কোয়ার্টার-ফাইনালের স্মৃতি এখনও তাদের বড় অনুপ্রেরণা। বিশ্বকাপে এটি পঞ্চম উপস্থিতি, আর গ্রুপ এল-এ ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও পানামার বিপক্ষে তাদের শক্তি হবে গতি, শারীরিক সক্ষমতা ও সরাসরি আক্রমণ। |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | ৪ | ২০১০-পরবর্তী প্রথম বিশ্বকাপ এটিই। বাছাইপর্বে পরিণত পারফরম্যান্স দেখালেও গ্রুপ এ-তে স্বাগতিক মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে তাদের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হবে প্রথমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, তারপর পয়েন্ট তোলা। |
| কোট দিভোয়ার | ৪ | ১২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ‘এলিফ্যান্টস’-দের জন্য বড় অর্জন। দলটির ভারসাম্য ভালো, তবে গ্রুপ ই-তে জার্মানি ও ইকুয়েডরের মতো প্রতিপক্ষ তাদের জন্য বড় পরীক্ষা। |
| কেপ ভার্দে | ১ | এটি তাদের বিশ্বকাপ অভিষেক। ছোট দেশ হিসেবে বড় মঞ্চে ওঠাটাই ঐতিহাসিক, আর দলীয় শৃঙ্খলা ও লড়াইয়ের মানসিকতা তাদের মূল ভরসা; তবে গ্রুপ এইচ-এ স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে কাজটা অত্যন্ত কঠিন। |
| কঙ্গো ডিআর | ২ | ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফেরা তাদের জন্য আবেগ ও আত্মবিশ্বাসের বড় গল্প। কিন্তু গ্রুপ কে-তে পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান থাকায় তারা সবচেয়ে কঠিন ড্রগুলোর একটি পেয়েছে। |
কারা এগিয়ে, কারা চমক দিতে পারে
আমার বিশ্লেষণে মরক্কো এবং সেনেগাল আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী নকআউট-দাবিদার। তিউনিসিয়া, মিসর, আলজেরিয়া, ঘানা ও কোট দিভোয়ার — এই দলগুলো নির্দিষ্ট দিনে যেকোনো শক্তিকে চাপে ফেলতে পারে, তবে তাদের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে ফিনিশিং, ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট আর গ্রুপের প্রতিপক্ষের ওপর। দক্ষিণ আফ্রিকা ও কঙ্গো ডিআর পয়েন্ট কাড়ার মতো দল, আর কেপ ভার্দে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রথমে সম্মানজনক পারফরম্যান্সের লক্ষ্যেই নামবে। এই মূল্যায়ন দলগুলোর সাম্প্রতিক যোগ্যতা, বিশ্বকাপ ইতিহাস এবং গ্রুপ-পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
আফ্রিকার বিশ্বকাপ মানচিত্র কেন বদলেছে
৪৮ দলের ফরম্যাটে আফ্রিকা এখন একসঙ্গে অভিজ্ঞ, প্রতিযোগিতামূলক এবং নতুন—এই তিন ধরনের প্রতিনিধিকে মাঠে নামাতে পারছে। মরক্কো-সেনেগালের মতো প্রতিষ্ঠিত শক্তি যেমন আছে, তেমনি কেপ ভার্দে ও কঙ্গো ডিআর-এর মতো নতুন বা দীর্ঘ প্রতীক্ষার দলও আছে; ফলে আফ্রিকার এই ব্লকটি শুধু সংখ্যা নয়, মান ও বৈচিত্র্যেও ২০২৬ বিশ্বকাপকে সমৃদ্ধ করছে।
তথ্যসূত্র: FIFA-এর CAF qualifiers hub, qualified-teams পেজ, দলভিত্তিক team profile/history ও group-focus/preview পেজ; পাশাপাশি পরিপূরক বর্তমান-ঘটনা যাচাইয়ের জন্য Reuters-এর ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রিভিউ ও টিম-ফিচার।



