যুক্তরাজ্যে ঘটনার তদন্তে পুলিশের যোগাযোগ, দুই পক্ষের ভিন্ন বর্ণনা
লন্ডন | ২১ জুন ২০২৬
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ শহরে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যও সামনে এসেছে।
তবে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের বক্তব্যে রয়েছে স্পষ্ট ভিন্নতা। অভিযোগকারী যেখানে পরিকল্পিত হামলার কথা বলছেন, সেখানে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি—এটি ছিল উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, কোনো হামলা নয়।
কী ঘটেছে
স্থানীয় সময় ১৯ জুন শুক্রবার বিকেলে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ শহরে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী জুবায়ের আহমেদ, যিনি নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং বর্তমানে কেমব্রিজে কর্মরত গবেষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, দাবি করেছেন যে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর পথরোধ করে তাঁকে মারধর করেন।
তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী:
• কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে তাঁকে ঘিরে ধরেন
• তাঁকে কিল–ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়
• একজনের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল বলে তাঁর দাবি
• তলপেটের পাশে সামান্য আঘাত পান বলে অভিযোগ করেন তিনি
জুবায়ের বলেন, আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চলে যান।
অভিযুক্ত পক্ষ কী বলছে
এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের নেতা জাকির চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাঁর দাবি:
ঘটনার আগে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে মোটরসাইকেলে করে জুবায়ের তাঁদের গাড়ি অনুসরণ করছিলেন। পরে তাঁকে থামিয়ে কারণ জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
তিনি বলেন,
“তাঁকে আক্রমণ করা হয়নি; পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
তাঁর আরও দাবি, যুক্তরাজ্যের পুলিশ প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্ত বন্ধ করেছে।
যদিও এই দাবি সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য এখনো প্রকাশ হয়নি।
পুলিশের অবস্থান
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী:
• ঘটনাটি পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হয়েছে
• অন্তত একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে
• হাসনাত আবদুল্লাহর কাছেও ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য চাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে
তবে তদন্তের আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের সরাসরি অবস্থান এখনো প্রকাশ হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় কী এসেছে
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুজন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন।
তাঁদের ভাষ্যে উঠে এসেছে:
• প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়
• পরে কয়েকজন একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ধরেন
• ধাক্কাধাক্কি ও টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে
• ঘটনার পর গাড়িগুলো দ্রুত স্থান ত্যাগ করে
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ প্রকাশ্যে কারও বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার দায় নির্দিষ্ট করেছেন—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
এই ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন এখনো অনুত্তরিত:
১. এটি কি পরিকল্পিত হামলা ছিল, নাকি উত্তপ্ত পরিস্থিতির আকস্মিক সংঘর্ষ?
২. ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে কোনো ফরেনসিক বা চিকিৎসা প্রমাণ আছে কি?
৩. যুক্তরাজ্য পুলিশ তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করেছে—এই দাবির পক্ষে কোনো লিখিত নথি আছে কি?
৪. সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর ভিডিও কি তদন্তে যুক্ত হয়েছে?
বর্তমান অবস্থা
ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত:
- অভিযোগ দায়ের হয়েছে
- সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ হয়েছে বলে জানা গেছে
- আনুষ্ঠানিক তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ হয়নি
ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনার পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
দাবি বনাম নিশ্চিত তথ্য
যা নিশ্চিত:
- ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ হয়েছে
- দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে
- কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগের তথ্য এসেছে
যা এখনো অভিযোগ পর্যায়ে:
- পরিকল্পিত হামলার দাবি
- ছুরি ব্যবহারের অভিযোগ
- রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
- তদন্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবি



