Homeটুডে হেলথমুরগির বিষ্ঠা মাছের পুকুর ও ফসলের জমিতে: সার, নাকি অদৃশ্য খাদ্যঝুঁকির পথ?

মুরগির বিষ্ঠা মাছের পুকুর ও ফসলের জমিতে: সার, নাকি অদৃশ্য খাদ্যঝুঁকির পথ?

দেশে বিপুল পরিমাণ মুরগির বর্জ্য তৈরি হলেও সবটা নিরাপদভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে কি? গবেষণায় মিলেছে জীবাণু, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ও ভারী ধাতুর উদ্বেগ

বিশেষ প্রতিবেদন | TODAY TV BD

বাংলাদেশে মুরগির খামার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য। এই বর্জ্যের একটি অংশ জৈবসার তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব, আবার মাছের পুকুরেও জৈব সার হিসেবে প্রয়োগের দীর্ঘদিনের চর্চা রয়েছে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন কাঁচা বা অপর্যাপ্তভাবে প্রক্রিয়াজাত মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি ফসলের জমি কিংবা মাছের পুকুরে চলে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, অপরিশোধিত মুরগির বিষ্ঠায় ই. কোলাই, সালমোনেলা-সহ রোগজীবাণু থাকতে পারে। এ ধরনের বর্জ্য সবজি উৎপাদনে ব্যবহার করলে রোগজীবাণু মাটি, পানি ও ফসলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশে করা গবেষণাতেও এমন দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মুরগির বিষ্ঠায় থাকা অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ ও অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগ রয়েছে। কিছু সমন্বিত মুরগি-মাছ খামারে মাছ, পুকুরের তলানি ও মুরগির বিষ্ঠার মধ্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়েও গবেষণায় সতর্কতা এসেছে।

তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য জানা দরকার—সব মুরগির বিষ্ঠা বিষাক্ত নয়, সব মাছ বা সব ফসল দূষিত নয় এবং কাঁচা বিষ্ঠা ব্যবহারের সব ক্ষেত্রেই মানুষ অসুস্থ হচ্ছে—এমন সরাসরি প্রমাণও নেই। ঝুঁকি তৈরি হয় মূলত বর্জ্য কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর।

প্রতিদিন ৩০–৪০ হাজার মেট্রিক টন—সংখ্যাটি কতটা বাস্তব?

বাংলাদেশে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন মুরগির বিষ্ঠা তৈরি হয়—এমন একটি নির্দিষ্ট সরকারি পরিমাপ আমরা পাইনি। তাই এটিকে নিশ্চিত জাতীয় পরিসংখ্যান হিসেবে বলা ঠিক হবে না।

তবে এই সংখ্যাটি একেবারে অসম্ভবও নয়—এমন একটি হিসাবের ভিত্তি পাওয়া যায়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ২০২৪–২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩৩ কোটি ৬০ লাখ মুরগি রয়েছে।

বাংলাদেশের মুরগির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণা-পর্যালোচনায় বাণিজ্যিক মুরগির ক্ষেত্রে প্রতি পাখির দৈনিক বিষ্ঠা উৎপাদন প্রায় ৭০ থেকে ১৭৮ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী ১০ হাজার ডিমপাড়া মুরগি দিনে প্রায় এক মেট্রিক টন বিষ্ঠা উৎপাদন করতে পারে।

১০০ গ্রামকে একটি সরল গড় ধরে ৩৩ কোটি ৬০ লাখ মুরগির হিসাব করলে দিনে প্রায় ৩৩ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন দাঁড়ায়।

কিন্তু এখানেও বড় একটি সতর্কতা আছে। এই হিসাব প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সরাসরি দৈনিক বর্জ্য পরিমাপ নয়। বিভিন্ন জাত, বয়স, খাদ্য, পানি গ্রহণ, খামারের ধরন এবং বিষ্ঠার সঙ্গে বিছানার উপকরণ মেশার কারণে প্রকৃত পরিমাণ অনেকটা ওঠানামা করতে পারে। গবেষণায় বার্ষিক মোট বর্জ্যের হিসাবও একেক পদ্ধতিতে একেক রকম এসেছে। তাই জাতীয় পর্যায়ে নির্ভুল সংখ্যা জানতে হলে খামারভিত্তিক বর্জ্য উৎপাদনের সরকারি জরিপ প্রয়োজন।

অর্থাৎ ৩০–৪০ হাজার মেট্রিক টনকে আপাতত একটি সম্ভাব্য আনুমানিক হিসাব বলা যায়, নিশ্চিত সরকারি দৈনিক পরিসংখ্যান নয়।

সমস্যাটা কোথায়?

মুরগির বিষ্ঠা নিজে কোনো “বিষ” নয়। এতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়ামসহ উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে। এ কারণেই বহু বছর ধরে এটি কৃষিজমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে মাছের পুকুরেও মুরগির বিষ্ঠা জৈব সার হিসেবে ব্যবহারের পুরোনো চর্চা আছে।

সমস্যা হলো কাঁচা বিষ্ঠা আর নিরাপদভাবে প্রক্রিয়াজাত জৈবসার এক জিনিস নয়।

মুরগির অন্ত্র থেকে বের হওয়া তাজা বিষ্ঠায় নানা ধরনের জীবাণু থাকতে পারে। এটি সরাসরি মাটিতে, পানিতে বা পুকুরে গেলে সেই জীবাণু নতুন পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়।

বিশেষ করে মানুষের খাবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ফসলের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিটি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের গবেষণায় সবজিতে জীবাণু পাওয়া গেছে

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলের ৮৬টি ছোট মুরগির খামার নিয়ে করা একটি গবেষণায় খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অপরিশোধিত মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করা কৃষিজমি পরীক্ষা করা হয়।

গবেষকেরা সবজি, মাটি, পুকুরের পানি ও মুরগির বিষ্ঠার নমুনা সংগ্রহ করে ই. কোলাই ও সালমোনেলা খুঁজেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, কিছু অপরিশোধিত বিষ্ঠায় ই. কোলাই ও সালমোনেলা ছিল। এমনকি ছয়টি মুরগির বিষ্ঠার নমুনা থেকে কম্পোস্টের গর্তে রাখা নমুনায় পরীক্ষিত জীবাণুর বৃদ্ধি পাওয়া যায়নি—যা সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্ভাব্য উপকারও দেখায়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল সবজির নমুনা।

গবেষণায় ৭২টি সবজির মধ্যে ৪৪টিতে ই. কোলাই, সালমোনেলা অথবা দুটিই পাওয়া যায়। গবেষণাটি অবশ্য প্রমাণ করে না যে ওই সবজিগুলো খাওয়ার কারণে মানুষ অসুস্থ হয়েছে; তবে অপরিশোধিত মুরগির বর্জ্য থেকে মাটি, পানি ও সবজিতে জীবাণু পৌঁছানোর একটি বাস্তব পথ যে রয়েছে, তা দেখায়।

নতুন গবেষণায় গাজীপুরেও একই সতর্কতা

২০২৫ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশি একটি গবেষণায় গাজীপুরে মুরগির বিষ্ঠার ই. কোলাই এবং আশপাশের মাটি, পানি ও কৃষিপণ্যে তার উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণায় মুরগির খামারের বিষ্ঠা, আশপাশের পানি, মাটি এবং মুরগির বর্জ্য ব্যবহার করা জমিতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য থেকে ই. কোলাই শনাক্ত করা হয়েছে। সব নমুনা মিলিয়ে ই. কোলাইয়ের উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ। গবেষকেরা আরও দেখেছেন, কোনো কোনো নমুনার জীবাণুর সঙ্গে অন্যান্য প্রাণী ও মানুষের পরিবেশে পাওয়া ই. কোলাইয়ের জিনগত মিল রয়েছে। তবে শিগা বিষক্রিয়াজনিত ই. কোলাইয়ের নির্দিষ্ট বিষাক্ত জিন পাওয়া যায়নি।

এই ফলাফলকে খুব সতর্কভাবে পড়তে হবে। এটি “বাংলাদেশের সব সবজি দূষিত” প্রমাণ করে না। বরং বলে—মুরগির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে খামারসংলগ্ন পরিবেশ থেকে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মাটির কাছাকাছি ফসল কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?

এখানেও একটু বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি বোঝা দরকার।

মাটির কাছাকাছি জন্মানো শাকসবজি, যেমন পালংশাক, ধনেপাতা, লালশাক, বিভিন্ন পাতাজাতীয় সবজি বা মাটির সংস্পর্শে থাকা ফসলে বৃষ্টির ছিটা, সেচের পানি, মাটি ও কাঁচা জৈবসারের মাধ্যমে জীবাণু লেগে যেতে পারে।

মাটির নিচের ফসলের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি আছে, কারণ তোলার সময় মাটি ফসলের গায়ে লেগে থাকতে পারে। তবে রোগজীবাণু মানুষের শরীরে সরাসরি গাছের শিকড় দিয়ে ঢুকে যায়—এমন সাধারণীকরণ ঠিক নয়। মূল ঝুঁকি হলো মাটি, পানি, হাত, যন্ত্রপাতি ও ফসলের গায়ে জীবাণুর দূষণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও নিরাপদ সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে পশুর মল থেকে ক্ষেত রক্ষা, নিরাপদভাবে প্রক্রিয়াজাত মল ব্যবহার এবং দূষিত সেচের পানি এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেয়।

আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশনাও কাঁচা বিষ্ঠা নিয়ে সতর্ক

খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ কোডেক্স নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পশুর মল বা প্রাকৃতিক জৈবসার ব্যবহারের ক্ষেত্রে জীবাণু, রাসায়নিক ও ভৌত দূষণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—অপর্যাপ্তভাবে প্রক্রিয়াজাত মলে রোগজীবাণু কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি কয়েক মাসও বেঁচে থাকতে পারে। সঠিকভাবে কম্পোস্ট করা হলে রোগজীবাণু কমানোর কার্যকর উপায় হতে পারে। ক্ষেতের জন্য সাধারণভাবে সম্পূর্ণভাবে কম্পোস্ট করা পশুর বর্জ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, কাঁচা বা অপর্যাপ্তভাবে কম্পোস্ট করা পশুর মল ব্যবহার করা হলে তাজা ফসলে ই. কোলাই ও সালমোনেলার মতো খাদ্যবাহিত রোগজীবাণুর উপস্থিতি বাড়তে পারে।

অর্থাৎ “বিষ্ঠা মানেই সার”—এই ধারণার সঙ্গে “যেভাবে খুশি কাঁচা বিষ্ঠা জমিতে দেওয়া নিরাপদ”—এই ধারণাকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।

মাছের পুকুরে সরাসরি বিষ্ঠা দেওয়া কি নতুন কিছু?

না। বাংলাদেশে মাছ ও হাঁস-মুরগি একসঙ্গে পালনের পুরোনো ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরাও মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি পুকুরে পড়া এবং বাইরে থেকে দেওয়া—দুই পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন।

পুরোনো কৃষি ও মৎস্যচর্চায় মুরগির বিষ্ঠাকে সস্তা জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। খাদ্যশৃঙ্খলে পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরিতে এর ভূমিকা থাকতে পারে।

কিন্তু কয়েক দশক আগের “মাছ উৎপাদন বাড়ছে” ফলাফল আর আজকের খাদ্যনিরাপত্তা, জীবাণু, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ও ভারী ধাতু—এই পুরো ঝুঁকি একসঙ্গে বিবেচনা করা এক কথা নয়।

মাছের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও সরাসরি কেন?

পুকুরে কাঁচা বিষ্ঠা গেলে তার জীবাণু সরাসরি পানির পরিবেশে প্রবেশ করতে পারে। একই সঙ্গে বিষ্ঠার সঙ্গে নাইট্রোজেন ও জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ে। অতিরিক্ত জৈব পদার্থ পচনের সময় পানির অক্সিজেন কমাতে পারে এবং পানির গুণগত ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

এর পাশাপাশি মুরগির খাদ্য ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক উপাদান এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ বর্জ্যের মাধ্যমে পরিবেশে যেতে পারে।

বাংলাদেশে মুরগির বিষ্ঠায় সিপ্রোফ্লক্সাসিন, এনরোফ্লক্সাসিন, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও ডক্সিসাইক্লিন-এর মতো অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে এমন গবেষণা রয়েছে। একটি গবেষণায় সিপ্রোফ্লক্সাসিন সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও ডক্সিসাইক্লিনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ঝুঁকিও চিহ্নিত করা হয়।

শুধু অ্যান্টিবায়োটিক নয়, অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধও বড় উদ্বেগ

এখানে আরও একটি ভয়ংকর কিন্তু একটু ভিন্ন বিষয় আছে।

বিষ্ঠার সঙ্গে শুধু ওষুধের অবশিষ্টাংশ নয়, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু ও প্রতিরোধের জিনও পরিবেশে যেতে পারে।

বাংলাদেশের সমন্বিত মুরগি-মাছ খামার নিয়ে ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় মুরগির বিষ্ঠা, পুকুরের তলানি, মাছের অন্ত্র, মুরগির অন্ত্র ও খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তিনটি খামার থেকে মোট ২৭টি নমুনা নিয়ে করা এই গবেষণায় ই. কোলাই, প্রোটিয়াস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, ভিব্রিও, সালমোনেলা-সহ নানা ধরনের জীবাণু পাওয়া যায়। নমুনাগুলোর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের হার বিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি ছিল; মাছের অন্ত্র ও পুকুরের তলানিতেও প্রতিরোধী জীবাণু পাওয়া যায়।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। তবে এখানেও বাড়িয়ে বলা যাবে না—গবেষণাটি মাত্র তিনটি খামার ও ২৭টি নমুনার ওপর করা, এবং মাছ খেয়ে মানুষের মধ্যে সরাসরি সংক্রমণ ঘটেছে—এমন প্রমাণ এতে দেখানো হয়নি। গবেষণাটি মূলত দেখিয়েছে, এই সমন্বিত খামারব্যবস্থা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের পরিবেশগত ভাণ্ডার হয়ে উঠতে পারে।

মাছের শরীরে ভারী ধাতু ঢোকার প্রমাণও আছে

বাংলাদেশের যশোরের পাঁচটি সমন্বিত মুরগি-মাছ খামার নিয়ে ২০১৯–২০২০ সালে করা একটি গবেষণায় মুরগি, মুরগির খাদ্য, বিষ্ঠা, পুকুরের পানি, পুকুরের তলানি ও মাছের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণায় আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম ও সীসা নিয়ে বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, কিছু মাছের অংশে ক্রোমিয়াম ও আর্সেনিকের মাত্রা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গবেষণায় দূষণের মাত্রা মোটামুটি পুকুরের তলানি → মুরগির বিষ্ঠা → মাছের বিভিন্ন অংশ → মুরগি → পুকুরের পানি—এই ক্রমে ছিল।

গবেষকেরা মাছ ও মুরগি খাওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও হিসাব করেছেন এবং আর্সেনিকের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক ঝুঁকি সূচক পেয়েছেন।

এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—সমন্বিত খামারে একটি পদার্থের যাত্রা শুধু খামারের মেঝেতে শেষ হয় না; তা মাটি, পানি, তলানি এবং মাছের দেহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তবে এই ফলাফল বাংলাদেশে উৎপাদিত সব মাছের জন্য প্রযোজ্য নয়। এটি নির্দিষ্ট কয়েকটি খামারের গবেষণা।

অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ মাছেও পাওয়া গেছে

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ২০১৫ সালে করা একটি গবেষণায় ১৫৩টি মাছের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ নমুনায় অন্তত একটি পরীক্ষিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ পাওয়া গিয়েছিল। মুরগির ১৮২টি নমুনার মধ্যে এ হার ছিল ৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ। মাছের নমুনায় অ্যামক্সিসিলিন ও অক্সিটেট্রাসাইক্লিনের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়।

তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই গবেষণা প্রমাণ করে না যে মাছের অ্যান্টিবায়োটিক অবশিষ্টাংশ মুরগির বিষ্ঠা থেকেই এসেছে। মাছের চিকিৎসা, খাদ্য বা খামারের অন্য উৎস থেকেও অ্যান্টিবায়োটিক আসতে পারে।

তবু এটি দেশের মাছের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে।

মলা মাছ কি মুরগির বিষ্ঠা ছাড়া চাষ করা যায় না?

একজন খামারির এমন অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে “মলা মাছ মুরগির বিষ্ঠা ছাড়া চাষ করা যায় না”—এ কথা ঠিক নয়।

ওয়ার্ল্ডফিশের বাংলাদেশবিষয়ক মলা মাছ চাষের পর্যালোচনায় দেখা যায়, মলা মাছের পুকুরে কৃষকেরা গরুর গোবর, তেলবীজের খৈল, ধানের কুঁড়া ও অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। কোনো কোনো পুকুরে শুধু গরুর গোবর দিয়েও মলা চাষ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের গবেষণাতেও মলা ও কার্পের মিশ্র চাষে গরুর গোবর ব্যবহার করে ভালো উৎপাদনের উদাহরণ রয়েছে।

অর্থাৎ মুরগির বিষ্ঠা সস্তা ও সহজলভ্য বলে অনেক কৃষক ব্যবহার করতে পারেন; কিন্তু এটি মলা মাছের জন্য অপরিহার্য খাদ্য নয়।

“ডিকম্পোজ করলে জীবাণু থাকবে না”—এটিও পুরোপুরি ঠিক নয়

সঠিকভাবে কম্পোস্ট বা জৈব পচন-প্রক্রিয়া করা হলে রোগজীবাণু অনেকাংশে কমে যায়—এটি সত্য।

কিন্তু “জীবাণু শতভাগ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে”—এমন নিশ্চয়তা নেই। কম্পোস্টের পুরো স্তরে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা না পৌঁছালে কিছু জীবাণু টিকে থাকতে পারে। একটি গবেষণায় মুরগির বিষ্ঠার স্তূপে উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যেও কিছু সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল।

এ কারণেই আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশনায় শুধু “বিষ্ঠা কিছুদিন রেখে দেওয়া” নয়, নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে কম্পোস্ট করা এবং পুরো স্তরে প্রয়োজনীয় তাপ পৌঁছানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ভারী ধাতু কি কম্পোস্ট করলে নষ্ট হয়ে যায়?

এখানে ব্যবহারকারীর উত্থাপিত আশঙ্কার একটি অংশ বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভাষাটি একটু সংশোধন করা দরকার।

ভারী ধাতু জীবাণুর মতো পচে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায় না। কারণ সীসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক বা ক্রোমিয়াম কোনো জৈব জীবাণু নয়; এগুলো রাসায়নিক মৌল বা ধাতব উপাদান।

কম্পোস্টিংয়ের ফলে জৈব পদার্থ কমে গেলে ধাতুর ঘনত্ব কখনো বেড়েও যেতে পারে। আবার রাসায়নিক রূপ বদলে কিছু ধাতুর উদ্ভিদে গ্রহণযোগ্যতা বা পরিবেশে চলাচলের ক্ষমতা কমতে বা বাড়তে পারে। অর্থাৎ কম্পোস্টিং ভারী ধাতু মুছে দেয় না; বরং তাদের রাসায়নিক রূপ ও প্রাপ্যতা পরিবর্তন করতে পারে।

তাই মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে তৈরি জৈবসার নিরাপদ কি না, সেটি নিশ্চিত করতে শুধু “এটি ভালোভাবে পচেছে কি না” দেখলেই হবে না; প্রয়োজন হলে সীসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক, ক্রোমিয়ামসহ দূষক পরীক্ষা করতে হবে।

অ্যান্টিবায়োটিকও সবসময় একইভাবে থাকে না

অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিকভাবে পরিচালিত কম্পোস্টিংয়ে অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। একটি ক্ষেত্রভিত্তিক গবেষণায় ১০ সপ্তাহের কম্পোস্টিংয়ের পর সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের পরিমাণ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছিল এবং বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জিনের পরিমাণও কমে যায়।

আরও বড় একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বায়বীয় কম্পোস্টিংয়ে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জিনের পরিমাণ গড়ে প্রায় ৭৪ শতাংশ এবং চলনশীল জিনগত উপাদানের পরিমাণ প্রায় ৭৯ শতাংশ কমতে পারে। কিন্তু সব প্রতিরোধী জিন একই হারে কমে না; সালফোনামাইড-প্রতিরোধী কিছু জিনের হ্রাস অনেক কম ছিল।

অর্থাৎ সঠিক কম্পোস্টিং অ্যান্টিবায়োটিক ও প্রতিরোধের ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু শতভাগ নিশ্চিহ্ন করার নিশ্চয়তা দেয় না।

আসল বিপদ কোথায়?

সমস্যার কেন্দ্র শুধু মুরগির বিষ্ঠা নয়—অব্যবস্থাপনা।

একটি খামারের বিষ্ঠা যদি সংগ্রহ করে নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তা জৈবসার, জৈব জ্বালানি বা অন্য মূল্যবান পণ্যে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশের ওপর করা গবেষণাগুলোও মুরগির বর্জ্য থেকে জৈবসার ও জৈব গ্যাস তৈরির সম্ভাবনার কথা বলেছে।

কিন্তু যদি কাঁচা বিষ্ঠা—

নালায় পড়ে,
পুকুরে সরাসরি যায়,
বৃষ্টির পানিতে ভেসে জমিতে যায়,
অপরিশোধিত অবস্থায় সবজিতে দেওয়া হয়,
অথবা শুধু শুকিয়ে “প্রস্তুত সার” হিসেবে বিক্রি হয়,

তাহলে জীবাণু, ওষুধের অবশিষ্টাংশ ও দূষকের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।

শুকানো আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা এক নয়

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কাঁচা বিষ্ঠা রোদে শুকিয়ে গেলে পানির পরিমাণ কমে এবং কিছু জীবাণু কমে যেতে পারে। কিন্তু “শুকনো” মানেই “নিরাপদ” নয়।

কোডেক্স নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, পশুর বর্জ্যের সঠিক চিকিৎসার ধরন ও তার মাধ্যমে কতটা জীবাণু কমেছে—সেটি বিবেচনা করতে হবে। কম্পোস্টের পুরো স্তরে প্রয়োজনীয় তাপ পৌঁছানো নিশ্চিত করা দরকার।

অর্থাৎ বাইরে থেকে শুকনো দেখতে পাওয়া কোনো বিষ্ঠার স্তূপকে পরীক্ষাহীনভাবে নিরাপদ জৈবসার বলা যায় না।

মাছের পুকুরে ব্যবহার করলে কী করা উচিত?

বাংলাদেশে মাছের পুকুরে জৈবসার হিসেবে মুরগির বর্জ্য ব্যবহারের ঐতিহ্য আছে। কিন্তু খাদ্যনিরাপত্তার দিক থেকে কাঁচা বিষ্ঠা সরাসরি পানিতে ফেলার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মাছ ও মৎস্যপণ্যবিষয়ক খাদ্যনিরাপত্তা নীতিতেও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক সার হিসেবে পশুর মল ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাছের স্বাস্থ্যগত, রাসায়নিক, জীবাণুজনিত বা পরজীবীজনিত নিরাপত্তা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তাই মাছ উৎপাদন বাড়ছে কি না—একমাত্র সূচক হিসেবে না দেখে পুকুরের পানি, তলানি, মাছের দেহ এবং ব্যবহৃত জৈবসারের মান একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

তাহলে কি মুরগির বিষ্ঠা কৃষিতে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে?

বিজ্ঞান এমন সরল সিদ্ধান্ত দেয় না।

মুরগির বিষ্ঠা একটি মূল্যবান জৈব সম্পদ। এতে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি আছে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি কৃষির জন্য উপকারী হতে পারে।

কিন্তু কাঁচা বা অপর্যাপ্তভাবে প্রক্রিয়াজাত বিষ্ঠা এবং পরীক্ষিত ও যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত জৈবসারকে একই শ্রেণিতে রাখা যাবে না।

বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তার নীতিও সম্পূর্ণ নিষেধের বদলে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও প্রয়োগপদ্ধতির ওপর জোর দেয়।

এখন সরকারের কী করা দরকার?

প্রথম কাজ হওয়া উচিত দেশের মুরগির বর্জ্যের বাস্তব পরিমাণ নির্ণয় করা। কত খামারে প্রতিদিন কত বিষ্ঠা তৈরি হয়, তার কতটা সংগ্রহ করা হয়, কতটা জৈবসার হয়, কতটা মাছের পুকুরে যায় এবং কতটা খোলা পরিবেশে পড়ে থাকে—এমন একটি জাতীয় হিসাব দরকার।

দ্বিতীয়ত, বাজারে বিক্রি হওয়া মুরগির বিষ্ঠা বা জৈবসারের জন্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মান পরীক্ষার ব্যবস্থা দরকার।

তৃতীয়ত, নমুনাভিত্তিক পরীক্ষায় অন্তত ই. কোলাই, সালমোনেলা, অ্যান্টিবায়োটিক অবশিষ্টাংশ এবং সীসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক, ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতু নজরদারিতে আনা প্রয়োজন।

চতুর্থত, মাছের পুকুরে বর্জ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু মাছের উৎপাদন নয়, পানির গুণমান, পুকুরের তলানি, মাছের দেহ এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধও পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

পঞ্চমত, মুরগি ও মাছের সমন্বিত খামারকে একেবারে নিষিদ্ধ না করে নিরাপদ ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড তৈরি করা প্রয়োজন।

ভোক্তার জন্যও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহৃত জমির সবজি মানেই বিষাক্ত—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আবার কাঁচা বিষ্ঠায় উৎপাদিত সবজি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ—এটিও বলা যাবে না।

সবজি ভালোভাবে পরিষ্কার পানিতে ধোয়া, রান্নার ক্ষেত্রে যথাযথ তাপ প্রয়োগ, কাঁচা ও রান্না করা খাবারের জন্য আলাদা ছুরি-তক্তা ব্যবহার এবং নিরাপদ সেচের পানি ব্যবহারের গুরুত্ব রয়েছে। তবে ধুয়ে ফেললেই ভারী ধাতু বা সব রাসায়নিক দূর হয়ে যায়—এমন ধারণাও ভুল।

খাদ্যনিরাপত্তার সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো দূষণ হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা।

শেষ কথা

বাংলাদেশে মুরগির বিষ্ঠা কোনো “ফেলে দেওয়ার বর্জ্য” নয়; এটি কৃষির জন্য মূল্যবান সম্পদ হতে পারে। কিন্তু অপরিশোধিত অবস্থায় এটি একই সঙ্গে রোগজীবাণু, অ্যান্টিবায়োটিক অবশিষ্টাংশ, অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভারী ধাতুর পরিবেশগত বাহক হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে করা গবেষণায় অপরিশোধিত মুরগির বর্জ্য ব্যবহার করা জমির সবজিতে ই. কোলাই ও সালমোনেলা পাওয়া গেছে। গাজীপুরের গবেষণায় মুরগির বর্জ্য থেকে মাটি, পানি ও কৃষিপণ্যে ই. কোলাই ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মিলেছে। সমন্বিত মুরগি-মাছ খামারে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু এবং ভারী ধাতুর উপস্থিতিও গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য—সব মুরগির বিষ্ঠা দূষিত নয়, সব মাছ বা সবজি দূষিত নয় এবং কম্পোস্টিং কোনো অর্থহীন প্রক্রিয়া নয়। সঠিকভাবে পরিচালিত প্রক্রিয়াজাতকরণ রোগজীবাণু ও অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। ভারী ধাতু পচে নষ্ট হয় না, কিন্তু তাদের পরিবেশগত গতিশীলতা ও শোষণযোগ্যতা পরিবর্তিত হতে পারে।

সুতরাং প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয়—“মুরগির বিষ্ঠা কি বিষ?”

আসল প্রশ্ন হলো—আমরা কি এই বিশাল বর্জ্যকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে নিরাপদ সম্পদে পরিণত করছি, নাকি সস্তা বলে কাঁচা অবস্থায় মাছ, মাটি ও খাদ্যশৃঙ্খলে ঢুকিয়ে দিচ্ছি?

এই প্রশ্নের উত্তরই বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
১. বাংলাদেশে মুরগির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা—Current state of poultry waste management practices in Bangladesh, environmental concerns, and future recommendations। ২. বাংলাদেশে অপরিশোধিত মুরগির বর্জ্য ব্যবহার করা জমির সবজি, মাটি, পানি ও পুকুরে ই. কোলাই ও সালমোনেলা শনাক্তকরণ নিয়ে গবেষণা। ৩. গাজীপুরে মুরগির বর্জ্য থেকে মাটি, পানি ও কৃষিপণ্যে ই. কোলাই ছড়িয়ে পড়া নিয়ে ২০২৫ সালের গবেষণা। ৪. বাংলাদেশে মুরগির বর্জ্যে পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা। ৫. বাংলাদেশে সমন্বিত মুরগি-মাছ খামারে ভারী ধাতু ও মানবস্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা। ৬. বাংলাদেশে সমন্বিত মুরগি-মাছ খামারে জীবাণু ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ নিয়ে ২০২৬ সালের গবেষণা। ৭. চট্টগ্রামে মুরগি ও মাছের নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ নিয়ে গবেষণা। ৮. মুরগির বর্জ্যে ভারী ধাতু ও অ্যান্টিবায়োটিকের পরিণতি এবং কম্পোস্টিংয়ের প্রভাব নিয়ে ২০২৪ সালের পর্যালোচনা। ৯. কম্পোস্টিংয়ে রোগজীবাণু, অ্যান্টিবায়োটিক অবশিষ্টাংশ ও অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জিনের পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা। ১০. তাজা ফল ও সবজি উৎপাদনে পশুর মল ব্যবহারের খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশনা—খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোডেক্স। ১১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সবজি উৎপাদন নির্দেশনা। ১২. বাংলাদেশে ২০২৪–২৫ সালের মুরগির সংখ্যা—প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হিসাব। ১৩. বাংলাদেশে মুরগি-মাছ সমন্বিত চাষ এবং মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারের গবেষণা—বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা। ১৪. বাংলাদেশে মলা মাছ চাষের পদ্ধতি ও বিকল্প জৈবসার ব্যবহারের তথ্য—ওয়ার্ল্ডফিশ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments