Homeটুডে নেশনরাজধানীর মৌচাকে ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল নিহত

রাজধানীর মৌচাকে ছুরিকাঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল নিহত

আনারকলি মার্কেটের সামনে ভাগনেকে মারধরের ঘটনার সালিশে হামলা; যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঢাকা | ৯ জুন ২০২৬
রাজধানীর রমনা থানাধীন মৌচাক এলাকার আনারকলি মার্কেটের সামনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রকাশ্য ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মো. বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭)। গতকাল সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সোয়া ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে বিল্লালের ভাগনে মোবারক হোসেন আকাশকে কয়েকজন যুবক মারধর করে। এই ঘটনার পর আকাশ তাঁর মামা বিল্লালকে ডেকে আনেন। রাত ৮টার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে ওই মারামারির ঘটনার সালিশি বৈঠক বসলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের যুবদল নেতারা দেশীয় অস্ত্র ও ছুরি নিয়ে বিল্লালের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁর বুকে গভীর ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

📊 ঘটনার বিবরণ ও প্রাথমিক তদন্ত

  • নিহত ব্যক্তি: মো. বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭), স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য। (বাসা: হাতিরঝিল বাগানবাড়ি, পেশা: মালিবাগে সিমেন্ট ব্যবসায়ী)।
  • ঘটনাস্থল: মৌচাক আনারকলি মার্কেটের সামনে, রমনা, ঢাকা।
  • হত্যাকাণ্ডের কারণ: ভাগনে মোবারককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সালিশি বৈঠকে আকস্মিক হামলা।
  • আঘাতের ধরণ: বুকে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু ঘটে।
  • আইনি পদক্ষেপ: মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে এবং রমনা থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

📉 ঘটনার সময়রেখা

সময় ও তারিখ (২০২৬)ঘটনার পর্যায় ও বিবরণ
৮ জুন (সন্ধ্যা)মৌচাক আনারকলি মার্কেটের সামনে বিল্লালের ভাগনে মোবারককে প্রথম দফা মারধর।
৮ জুন (রাত ৮:০০)বিরোধ মীমাংসায় সালিশি বৈঠক ও যুবদল নেতাদের সাথে তীব্র তর্কাতর্কি থেকে বুকে ছুরিকাঘাত।
৮ জুন (রাত ৯:১৫)মুমূর্ষু অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পর চিকিৎসকদের দ্বারা মৃত ঘোষণা।

💬 প্রত্যক্ষদর্শী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য

হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক ও সেক্রেটারির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের ভাগনে।

“সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে কয়েকজন মিলে প্রথমে আমাকে মারধর করে। পরে আমি মামাকে ডেকে আনি। রাত ৮টার দিকে সালিশি বৈঠক চলার সময় যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক লুৎফরের সাথে মামার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে বাবুর নেতৃত্বেই তার অনুসারীরা মামার বুকে ছুরিকাঘাত করে।”
মো. মোবারক হোসেন আকাশ, নিহতের ভাগনে (প্রত্যক্ষদর্শী)

“আমরা খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল তৈরি করেছি। নিহতের বুকে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটি রমনা থানাকে অবগত করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই জড়িতরা পালিয়েছে, তবে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
মো. ফারুক (ইন্সপেক্টর), ইনচার্জ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প

📌 তথ্যসূত্র: *

  • ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল জরুরি বিভাগ রেকর্ড ও পুলিশ ক্যাম্প জবানবন্দি।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments