Homeটুডে নেশনপল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ১৯ দিনের মাথায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের...

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ১৯ দিনের মাথায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায়

মাত্র ৪ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের; রায়কে অপরাধ দমনে মাইলফলক মনে করছে সরকার

ঢাকা | ৭ জুন ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় এবং ট্রাইব্যুনালে মাত্র চার কার্যদিবসের সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করা হলো, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে এই অর্থদণ্ডের টাকা আদায়পূর্বক ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই রায়ের প্রতি রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষ—উভয় পক্ষের আইনজীবীরাই পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নথির বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিনই পুলিশ ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০ মে আদালতে আসামিরা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ১ জুন তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষ করে আজ এই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।

এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় তিনি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতাভুক্ত করায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করেন এবং অপরাধ দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

(ঘোষণা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার আলোকে আইনি সুরক্ষার্থে এই প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করা হলো না।)

📊 আদালতের রায় ও মামলার মূল তথ্য

  • অপরাধের ধরণ: আট বছরের এক শিশুকে ফ্ল্যাটের ভেতর ধর্ষণ এবং খণ্ডিত লাশ উদ্ধারপূর্বক নৃশংস হত্যা।
  • চূড়ান্ত সাজা: মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার উভয়েরই মৃত্যুদণ্ড।
  • আর্থিক জরিমানা: সোহেল রানার ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
  • সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ।
  • রেকর্ড বিচার: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় এবং মাত্র ৪ কার্যদিবসের শুনানিতে মামলার সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি।

💬 আইনজীবী ও নীতিনির্ধারকদের প্রতিক্রিয়া

“একটি নৃশংস ও হৃদয়বিدارক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।”

তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী (জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায়)

“আসামি সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। রায়ে দুজনেরই মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা হয়েছে। অপরাধীরা তাদের অপরাধের সঠিক বিচার পেয়েছেন, এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট।”

মুসা কালিমুল্যাহ, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

“এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা ছিল—সেটা আমি পেয়েছি। আল্লাহ পাকের রহমতে আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি। আমি এই রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।”

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা

📌 তথ্যসূত্র:

  • ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত কার্যবিবরণী (৭ জুন ২০২৬)।
  • জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও পল্লবী থানা পুলিশ প্রশাসন রেকর্ড।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments