মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি নিয়ে ইস্তফা; বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের ৬০ বিধায়কের নজিরবিহীন বিদ্রোহ
কলকাতা | ৫ জুন ২০২৬
কলকাতা পৌর করপোরেশনের (কেএমসি) মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। আজ শুক্রবার বিকেলের দিকে পৌর করপোরেশনের চেয়ারপারসন মালা রায়ের কাছে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র তুলে দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিয়েই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে কলকাতার মেয়রের দায়িত্ব সামলানো ফিরহাদ হাকিমের এই আকস্মিক বিদায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এই পদত্যাগ কেবল একটি প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এটি তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের গভীর ফাটলেরই অংশ। এর আগে চন্দননগর এবং বিধাননগর পৌরসভার মেয়ররাও প্রায় একই ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পদত্যাগের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “দলের তরফে নেত্রীর কাছে পারমিশন চেয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম সসম্মানে চলে যেতে চাই। উনি আমাকে বলেছেন ঠিক আছে।” তিনি দাবি করেন, নিজের মেয়াদে মনপ্রাণ দিয়ে তিনি কলকাতার উন্নয়নের কাজ করেছেন, তবে তাঁর কাজে কেউ অসন্তুষ্ট হয়ে থাকতে পারেন—সেই দায় নিয়েই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।
প্রকৃতপক্ষে, গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ শুরু হয়। দলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁরা মমতার মনোনীত প্রার্থী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী নেতার আসনে বসান। এই নাটকীয় বিদ্রোহের ফলে কার্যত দুই টুকরো হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে দলের বড় বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের সাধারণ সংসদ সদস্য ও বিধায়কদের একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক নেতৃত্ব ও কৌশলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, যার সর্বশেষ প্রভাব পড়ল কলকাতার মেয়র পদে।
📊 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- মেয়রের ইস্তফা: কলকাতা পৌর করপোরেশনের মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগপত্র জমা।
- পদত্যাগের সময়কাল: ২০১৮ সাল থেকে দীর্ঘ ৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর এই বিদায়।
- দলীয় বিদ্রোহ: বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনের প্রকাশ্য বিদ্রোহ।
- নেতৃত্বের বিভাজন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থীর পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী নেতা নির্বাচন।
- পৌর প্রশাসনিক ধস: চন্দননগর ও বিধাননগরের পর কলকাতার মেয়রের পদত্যাগ।
📉 পরিসংখ্যান প্যানেল
■ তৃণমূলের মোট বিধায়ক সংখ্যা: ৮০ জন
■ দলনেত্রীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী বিধায়ক: ৬০ জন
■ মমতাপন্থী অনুগত বিধায়ক: ২০ জন
■ শতাংশের হিসেবে বিদ্রোহের হার: ৭৫%
- [নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার ধারাবাহিক ঘটনাক্রম]
🕒 ঘটনাপঞ্জি
▶ মে-জুন ২০২৬: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের বিপর্যয় ও ভরাডুবি।
▶ ৩ জুন ২০২৬ (বুধবার): ৬০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী নেতা হিসেবে ঘোষণা।
▶ ৫ জুন ২০২৬ (শুক্রবার বিকেলে): চেয়ারপারসন মালা রায়ের কাছে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগপত্র হস্তান্তর।
- [গুঞ্জন বনাম প্রশাসনিক ও political বাস্তবতা]
⚠ মূল বিষয়গুলো
| যা নিশ্চিত | যা দাবি করা হচ্ছে | যা এখনও নিশ্চিত নয় |
|---|---|---|
| ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। | তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় সসম্মানে সরে গেছেন। | তৃণমূলের এই ৬০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক নতুন দল গঠন করবেন নাকি অন্য কোনো জোটে যোগ দেবেন। |
| বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিন-চতুর্থাংশ বিধায়কের সমর্থন হারিয়েছেন। | দল এখনো মমতাপন্থীদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। | কলকাতা পৌর করপোরেশনে নতুন মেয়র কে হচ্ছেন বা স্থানীয় প্রশাসনে অচলাবস্থা তৈরি হবে কি না। |
📌 তথ্যসূত্র:
কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রশাসনিক প্রতিবেদন, প্রথম আলো



