স্বাস্থ্য ডেস্ক | ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
সুস্থ থাকতে ভিটামিন ডি-র প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তবে শরীরে এর অভাব যেমন হাড়ের ক্ষতি করে, তেমনি এর মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার প্রবণতা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কিডনি ও হার্টের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কতটুকু ভিটামিন ডি শরীরের জন্য যথেষ্ট?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে প্রতি মিলিলিটারে ৩০ ন্যানোগ্রাম ভিটামিন ডি থাকলেই তা শরীরের জন্য পর্যাপ্ত। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে এই মাত্রা যদি ১০০-১৫০ ন্যানোগ্রামে পৌঁছে যায়, তবে তা বিষক্রিয়া বা ‘ভিটামিন ডি টক্সিসিটি’ তৈরি করে। এর ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) এবং এন্ডোক্রাইন সোসাইটির পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ ৬০০-৮০০ আইইউ (IU) মাত্রার সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। যদি কেউ টানা কয়েক সপ্তাহ প্রতিদিন ৫০ হাজার আইইউ মাত্রায় এটি গ্রহণ করেন, তবে শরীরে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়া অনিবার্য।
বেশি ভিটামিন ডি শরীরে কী ক্ষতি করে?
অনেকের ধারণা, অতিরিক্ত ভিটামিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন ডি-র ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো। রক্তে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি থাকলে শরীরে ক্যালশিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘হাইপারক্যালশেমিয়া’ বলা হয়। এই বাড়তি ক্যালশিয়াম শরীর থেকে বের হতে না পেরে জমাট বাঁধে, যা থেকে:
- কিডনিতে পাথর হতে পারে।
- হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে।
- মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
একটানা কতদিন খাওয়া যায়?
মুম্বাইয়ের বিশিষ্ট চিকিৎসক বিমল পাহুজা জানান, সাধারণত ভিটামিন ডি-র ঘাটতি মেটাতে ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এর বেশি সময় ধরে সাপ্লিমেন্ট খেতে হলে অবশ্যই পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করে মাত্রা যাচাই করে নিতে হবে। নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ দোকান থেকে কিনে দিনের পর দিন ভিটামিন ডি খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়।
ভিটামিন ডি বেড়ে যাওয়ার লক্ষণগুলো কী কী?
যদি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পর আপনার শরীরে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
- ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া।
- প্রচণ্ড জল তেষ্টা পাওয়া বা গলা শুকিয়ে যাওয়া।
- তলপেটে তীব্র ব্যথা।
- হাড় বা কোমরে নতুন করে ব্যথা শুরু হওয়া।
উপসংহার:
ভিটামিন ডি কেবল হাড় মজবুত করে না, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। তবে রোদের দেশ বাংলাদেশে যথেচ্ছ সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে সূর্যালোক থেকে এই ভিটামিন সংগ্রহ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। হাড় বা জয়েন্টে ব্যথা হলেই সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।



