নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্ষেপিত সংক্রামক ব্যাধি ‘হাম’ (Measles)। গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশই শিশু। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে এই ঘাতক ব্যাধি। একদিকে লাশের মিছিল বড় হচ্ছে, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে জীবনরক্ষাকারী হামের টিকার তীব্র সংকট।
টিকা সংকটের মূলে কি গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার?
দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের বীজ রোপিত হয়েছিল আজ থেকে কয়েক বছর আগে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় চরম গাফিলতি করা হয়েছিল। বিশেষ করে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) জন্য পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত করার যে পরিকল্পনা ছিল, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, গত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুর্নীতির কারণে বিদেশি সংস্থাগুলো থেকে নিয়মিত টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সময়মতো এলসি (LC) না খোলা এবং গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের (GAVI) সাথে সমন্বয়হীনতার কারণেই আজ এই ভয়াবহ টিকা সংকট দেখা দিয়েছে। গত সরকারের এই ‘অদূরদর্শী’ সিদ্ধান্তের মাসুল এখন দিতে হচ্ছে নিরপরাধ শিশুদের।
হাসপাতালে ঠাঁই নেই, হাহাকার পরিবারে
রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এখন হামে আক্রান্ত রোগীদের ভিড়। অনেক হাসপাতালেই আইসোলেশন ওয়ার্ডের অভাব এবং টিকার সরবরাহ না থাকায় ডাক্তাররা অসহায় বোধ করছেন। স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি টিকাদান কেন্দ্রে দিনের পর দিন ঘুরেও বাচ্চাদের টিকা দিতে পারছেন না তারা। এই হাহাকার ও আতঙ্ক যেন পুরো দেশকে গ্রাস করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যা করণীয়
বিশেষজ্ঞরা এই মহামারি ঠেকাতে অতিসত্বর কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন:
- জরুরি ভিত্তিতে টিকা আমদানি: বর্তমান সরকারকে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে অতি দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা আমদানি করতে হবে।
- রিং ভ্যাকসিনেশন: যে এলাকায় প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিয়েছে, সেখানে দ্রুত ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ (আক্রান্ত এলাকার চারপাশে সবাইকে টিকা দেওয়া) পদ্ধতি চালু করতে হবে।
- ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সরবরাহ: হামের জটিলতা কমাতে শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: হাম হলে লুকোছাপা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা জরুরি।
উপসংহার
হামের এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব কেবল একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং এটি প্রশাসনিক অবহেলার এক চরম নিদর্শন। বিগত সরকারের ভুল বা গাফিলতির তদন্ত যেমন প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি জরুরি এই মুহূর্তে আক্রান্তদের জীবন বাঁচানো। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই লাশের মিছিল থামাতে।



