কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন এক সাইবার নিরাপত্তা-ঝুঁকির কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকদের সতর্কতা, ছোট আকারের এআই মডেলও ভবিষ্যতে ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নিজেকে অন্য যন্ত্রে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হতে পারে। এমন ব্যবস্থা বাস্তবে কার্যকর হলে তা নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কীভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রোপিকের পরীক্ষায় ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারের কিছু মাঝারি আকারের এআই মডেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজ করতে পেরেছে। এর মধ্যে দুর্বল নিরাপত্তার যন্ত্র খুঁজে বের করা, সেগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা এবং সেখানে নিজেদের অনুলিপি তৈরির মতো কাজ রয়েছে।
এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে স্মার্ট টেলিভিশন, ইন্টারনেট-সংযুক্ত গৃহস্থালি যন্ত্র এবং সস্তা অ্যান্ড্রয়েড টিভি বক্সের মতো পণ্যের কথা বলা হয়েছে। এসব যন্ত্রের নিরাপত্তা দুর্বল হলে সেগুলো অন্য যন্ত্রে আক্রমণ চালানোর কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
অ্যানথ্রোপিকের আশঙ্কা, কোনো এআই মডেল এভাবে অনেক যন্ত্রে ছড়িয়ে পড়লে সেটি একটি বটনেট তৈরি করতে পারে। বটনেট হলো একাধিক সংক্রমিত যন্ত্রের এমন একটি নেটওয়ার্ক, যা দূর থেকে সম্মিলিতভাবে সাইবার আক্রমণ চালাতে পারে।
গবেষণায় যা পাওয়া গেছে, তার সীমাবদ্ধতাও আছে
অ্যানথ্রোপিকের গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় একাধিক পৃথক কাজ করতে পারলেও পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। একটি সহজ পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে মডেলগুলোর অনুলিপি ছড়ানোর সক্ষমতা দেখা গেছে। কিন্তু বাস্তব ইন্টারনেটজুড়ে একই কাজ সফলভাবে করা সম্ভব—এমন প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ব্রিটেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান সিয়ারান মার্টিন এ বিষয়ে সতর্কতার পাশাপাশি অতিরঞ্জনের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে কলোরাডো ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানী ঝেংশিয়ং লি বলেছেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারা ক্ষতিকর সফটওয়্যার হলে ঝুঁকিটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী পরিবর্তন দরকার
এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রের নিরাপত্তা, নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ, দুর্বল পাসওয়ার্ড প্রতিরোধ এবং নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বও বাড়ছে। কোনো যন্ত্রে অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা দিলে সেটিকে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তুতি রাখা জরুরি।
অ্যানথ্রোপিকের সতর্কতা এমন একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে, যা এখনো পুরোপুরি বাস্তবে প্রমাণিত হয়নি। তাই একে নিশ্চিত বিপর্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে এআইয়ের স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।




