চ্যাটবটের পর এবার কাজ নিজে থেকে এগিয়ে নেওয়া এআই এজেন্টের দিকে আরও এক ধাপ এগোল ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি ‘ডটস’ নামে এমন এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট উন্মোচন করেছে, যা ব্যবহারকারীর দেওয়া লক্ষ্য অনুসরণ করে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে নিজে থেকেই কাজ এগিয়ে নিতে পারবে। এর মাধ্যমে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, বাস্তব কর্মপ্রবাহের বড় অংশ এআই দিয়ে পরিচালনার দিকে প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।
কী করতে পারবে ‘ডটস’
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডটস বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে কাজ করতে পারে এবং স্ল্যাক ও টিমসের মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রকল্প এগিয়ে নিতে পারে।
এটি তথ্য খোঁজা, বিশ্লেষণ, নথি তৈরি, সফটওয়্যার নির্মাণ এবং চলমান কোনো প্রকল্পের পরিস্থিতি বদলে গেলে কাজের পরিকল্পনাও সংশোধন করতে পারবে। ওপেনএআই বলছে, ডটস চালিত হচ্ছে তাদের জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল দিয়ে।
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তায় জোর
এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবহারের সঙ্গে নিরাপত্তা ও তথ্য গোপনীয়তার প্রশ্নও বাড়ছে। ওপেনএআই জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা ডটসের জন্য নিজস্ব নিয়ম নির্ধারণ করতে পারবেন। পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা স্থায়ীভাবে তথ্য মুছে ফেলার মতো সংবেদনশীল কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া এজেন্ট এগোতে পারবে না।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ডটস নিজস্ব ক্লাউড কম্পিউটারে কাজ করবে এবং ব্যবসায়িক গ্রাহকদের তথ্য অনুমতি ছাড়া এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হবে না।
প্রতিযোগিতায় নতুন অধ্যায়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে এখন চ্যাটবটের পাশাপাশি ‘এজেন্ট’ প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। মেটার ‘মিউজ’সহ বিভিন্ন নতুন এআই সেবা বাজারে আসার পর ওপেনএআইও স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারকে ব্যবসায়িক ব্যবহারের কেন্দ্রে আনতে চাচ্ছে।
তবে উন্মোচনের অনুষ্ঠানে ডটসের সরাসরি প্রদর্শনেও সমস্যা দেখা যায়। কয়েকটি লাইভ ডেমোতে এআই এজেন্ট প্রত্যাশামতো ভয়েস আপডেট দিতে পারেনি। এতে বোঝা যাচ্ছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে দীর্ঘ সময় কাজ করতে সক্ষম এআই তৈরির পাশাপাশি তার নির্ভরযোগ্যতা ও নিয়ন্ত্রণও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ওপেনএআইয়ের এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি দুনিয়ায় একটি পরিবর্তনশীল প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে—এআই এখন শুধু তথ্য দেওয়ার হাতিয়ার নয়, ব্যবহারকারীর হয়ে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার প্রযুক্তিতেও দ্রুত এগোচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স




