চলতি বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৫; হাসপাতালে ভর্তি রোগী ৬৫ হাজার ৪৯৯
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন, যা চলতি বছরে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে বিডিনিউজ২৪ এ তথ্য জানিয়েছে।
নতুন পাঁচ মৃত্যু নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৫। আর বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন। শুধু নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যাই নয়, সেপ্টেম্বরজুড়ে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে।
ঢাকা ছাড়িয়ে বিভিন্ন বিভাগেও চাপ
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৫৯ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৯১ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৯১ জন। একই সময়ে বরিশালে ১৯০, চট্টগ্রামে ২৮৫, খুলনায় ৩১৬, ময়মনসিংহে ১০৫, রাজশাহীতে ১৬২, রংপুরে ৬৭ এবং সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অর্থাৎ ডেঙ্গুর চাপ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়। দেশের বিভিন্ন বিভাগে রোগী বাড়ায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বিডিনিউজ২৪-এর আরেকটি ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে একই সময়ে হাম, ডেঙ্গু ও মৌসুমি ফ্লুর রোগী সামলাতে হিমশিম পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।
হাসপাতালেও বাড়ছে চাপ
ঢাকার কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার ওপর চলে যাওয়ার খবর এসেছে। বিশেষ করে শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্যান্য সংক্রমণ থাকায় আইসিইউ ও শয্যার চাহিদাও বাড়ছে। একই সময়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা হাম পরিস্থিতি স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
২২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল চিকিৎসকদের ডেঙ্গু রোগীদের পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জে এক সভায় তিনি বলেন, রোগীরা চলে যেতে চাইলেও অন্তত চার দিন আগে তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগের বছরের সঙ্গে তুলনা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা। ২০২৫ সালে মৃত্যু হয়েছিল চার শতাধিক এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।
এ বছরের বর্তমান সংখ্যা এখনো আগের রেকর্ডের চেয়ে কম হলেও সেপ্টেম্বরের দৈনিক রোগী ভর্তির গতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২২ সেপ্টেম্বরের ১ হাজার ৮৭২ নতুন ভর্তি দেখিয়েছে, ডেঙ্গুর মৌসুম শেষ হওয়ার আগে হাসপাতালগুলোর ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগী শনাক্তের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; বিডিনিউজ২৪; বাংলা ট্রিবিউন; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।




